
বগুড়া সংবাদ: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের সাতবেকী মৌজায় অবস্থিত কদমতলী প্রাক-প্রাথমিক বে-সরকারি বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিনেও জাতীয়করণ না হওয়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন কর্মরত শিক্ষকরা। বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
জানা যায়, চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষানুরাগী আব্দুর রউফ মাস্টার ২০০৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে তিনি ২০০০ সালে সাতবেকী মৌজার ৮৫ নং খতিয়ানের হালদাগ নং ১৮৬ ও সাবেক দাগ নং ২১০ থেকে ৩৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে ২০০৬ সালের ৪ জুন ওই জমির মধ্যে ৩৩ শতাংশ বিদ্যালয়ের নামে দানপত্র দলিল করে দেন।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ শাহরিয়া। সহকারী শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন লতিফুল বারী, মোছাঃ লেবু আক্তার ও মোছাঃ রোকসানা খাতুন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টিকে পাঠদানের অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া কয়েক বছর শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পাঠ্যবইও পেয়েছে বলে জানা গেছে।
সহকারী শিক্ষক লতিফুল বারী জানান, শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষকরা বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষকরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পাবেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও বিনামূল্যে পাঠ্যবইসহ বিভিন্ন শিক্ষা সুবিধা পাবে। এতে বিদ্যালয়মুখী হওয়ার আগ্রহ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা আব্দুর রউফ মাস্টার ও এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আমিরুল ইসলাম জানান, সাতবেকী চরাঞ্চলের দুটি আবাসন প্রকল্পে প্রায় ২২০ পরিবার এবং আশপাশে মিলিয়ে চার শতাধিক পরিবারের বসবাস। এলাকায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কদমতলী বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েতুর রশীদ বলেন, “কদমতলী বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিগত কয়েক বছর বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে সারাদেশের বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। তাই কদমতলী বিদ্যালয়সহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিষয়ে সরকারের এই মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেই।”