
বগুড়া সংবাদ: জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কুরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে পরিচালিত একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি আন্দোলন। ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছে। কুরআন সুন্নাহর আলোকে একদল সৎ যোগ্য লোক তৈরি করছে, যাদের নেতৃত্বে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে। একদিকে যারা আজ সুন্দর পরিকল্পনার কথা বলছে অপর দিকে তারাই দূর্নীতি, চাদাবাজি ও সন্ত্রাস করছে। তাদের দ্বারা দেশ জাতি ও জনগণের কল্যাণ সাধন সম্ভব নয়। আদর্শিক নেতৃত্ব গঠন, সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীলদের কর্মদক্ষতায় বগুড়া অঞ্চলকে ইসলামী আন্দোলনের দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে পরিণত করার আহবান জানান। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার জামায়াতের উপর সীমাহিন জুলুম নিপীড়ন চালিয়েছে। আমার সহযোদ্ধা ১১ জন শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দিয়ে ও কারাগারে নির্যাতন চালিয়ে শহীদ করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম নিপীড়ন উপেক্ষা করে আর্ত মানবতার কল্যাণে জামায়াত সব সময় জনগণের পাশে ছিল ও থাকবে। জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে দেশে নৈরাজ্য চলছে। সরকার বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা। এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করতে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে হবে।
তিনি শনিবার বগুড়ার কলোনীস্থ শাহওয়ালীউল্লাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া অঞ্চল কর্মপরিষদ সদস্যদের দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দীন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও পাবনা জেলা আমীর আবু তালেব মন্ডল এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোহাম্মাদ আব্দুস সামাদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া মহানগর আমীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও বগুড়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জয়পুরহাট জেলা আমীর ফজলুর রহমান সাঈদ এমপি এবং কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা শাহীনুল ইসলাম। প্রধান অতিথি আরো বলেন, গড়িমসি করবেন না চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে । আন্তরিকতার পরিচয় দিয়ে মেনে নিন। শুধু অক্ষরে অক্ষরে পালন করার কথা মুখে বললে হবে না। বাস্তবে প্রমাণিত না করলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আশা বাস্তবায়ন হবেনা। আর এর পরিনতিও ভালো হবেনা। এদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার কোন স্বপ্ন পূরণ হবেনা।