বগুড়া সংবাদ : শনিবার বগুড়ার কলোনীস্থ শাহ ওয়ালিউল্লাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা কর্মপরিষদ শিক্ষা শিবির ২০২৬ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল বাছেদের পরিচালনায় এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মানছুরুর রহমানের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও বগুড়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হাকিম সরকার, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম রাজু, মাওলানা আব্দুল বাসেত, মাওলানা মিজানুর রহমান। জেলা কর্মপরিষদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল মজিদ, লতিফ ইব্রাহিম জিন্নাহ, হাফেজ আব্দুন নূর খন্দকার, মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, আব্দুল্লাহেল বাকি, রেজাউল করিম, আব্দুল মোমিন এবং নূর মোহাম্মাদ আবু তাহের। দিনব্যাপী এ শিক্ষাশিবিরে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, কর্মীদের মানোন্নয়ন এবং দ্বীনি দাওয়াতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, সরকার পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতন থেকে শিক্ষা নেয়নি। তাই তারা জুলাই সনদকে উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার রক্তের সাথে প্রতারণা করেছে। দেশ পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে তারা দেশব্যাপী ছাত্রদলকে সন্ত্রাসের পথে উস্কে দিচ্ছে। জাতির দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ছাত্রদলকে দিয়ে চট্টগ্রাম, ঈশ্বরদীর পর রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢুকে ডাকসু নেতৃবৃন্দের উপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। এভাবে সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সকল পরিস্থিতি ধৈর্য্যরে সাথে মোকাবেলা করছে। জামায়াতের সকল স্তরের দায়িত্বশীল ও নেতা-কর্মীদের সতর্কতার সহিত সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তিনি বলেন, জামায়াত মানবতার কল্যাণ সাধনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায়। বাংলাদেশের সবুজ ভূ-খন্ডে ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ করতে চায়। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার আদর্শিক মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে আমাদের উপর নির্যাতনের স্টীম রোলার চালিয়েছে। জাতীয় নেতৃবৃন্দ বিচারের নামে প্রহসন চালিয়ে ফাঁসিতে ও কারাগারে নির্যাতন চালিয়ে শহীদ করেছে। শত শত ভাইকে খুন ও গুম করেছে। লাখ লাখ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের অগ্রযাত্রা দমিয়ে রাখতে পারেনি। উল্টো আমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে গিয়ে তারা নিজেরাই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কারণ আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইসলামী আন্দোলনে শামিল হয়েছি। নিজেকে দ্বীনের দ্বায়ি হিসেবে গড়ে তুলতে চুড়ান্ত শপথ নিতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রস্তুতি নিতে হবে। বিজয়ের মালিক একমাত্র আল্লাহ।