বগুড়া সংবাদ : ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন বলেছেন,কালক্ষেপন না করে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে আইন ও মানবাধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে। বিনাভোটে, মধ্যরাতের ভোটে ও ডামি নির্বাচন দিয়ে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের করে নিয়েছিল। তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শুধু গদি নয়, তাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এদেশে আবারও যদি কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন না দেখে অতীতের ফ্যাসিস্টদের পরিনতির ইতিহাস স্মরণে রাখা উচিত। দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা দেশে আর নতুন কোন ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হতে দিবেনা।
তিনি রবিবার বিকেলে বগুড়া শহীদ খোকন পার্কে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গণভোটের রায় প্রতিষ্ঠার দাবিতে বগুড়া শহর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। বগুড়া শহর জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে ও শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রটারী এ্যাড. আল-আমিনের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশেষ অতিথি জাতীয় নাগরিক পাটি এনসিপির জেলা আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম এস এ মাহমুদ, বগুড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হাকিম সরকার, জেলা সেক্রেটারী মাওলানা মানছুুরুর রহমান, শহর সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক রফিকুল আলম, জেলা সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল বাছেদ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য নুর মোহাম্মাদ আবু তাহের, জাতীয় ছাত্রশক্তির বগুড়া জেলা আহবায়ক শাহরিয়ার জুহিন, শহর কর্মপরিষদ সদস্য এ্যাড. রিয়াজ উদ্দিন, আজগর আলী, আব্দুল হামিদ বেগ, এ্যাড শাহিন মিয়া, হেদাইতুল ইসলাম, আব্দুস সালাম তুহিন, এ্যাড. নূরুল ইসলাম আকন্দ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য রেজাউল করিম বাচ্চু, মাওলানা আব্দুল মজিদ, মাওলানা আব্দুল মমিন, শহর শ্রমিক ফেডারেশনের সেক্রেটারী মাস্টার আনোয়ারুল ইসলাম, গাবতলি থানা আমীর মাওলানা ইউনুস আলী, কাহালু থানা আমীর মাওলানা শাহিদা খান প্রমুখ।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন ছিল না। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ও সংবিধান সংস্কার। ১২ ফেব্রুয়ারীর গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ রায় দিয়ে প্রমাণ করেছে জনগণ পরিবর্তন ও সংস্কার চায়। কিন্তু দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিএনপি গণভোটের রায় ও জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে ফের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সাথে বেইমানীর ফল ভালো হবেনা। দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা এখনো রাজপথে রয়েছে।
এনসিপির জেলা আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার এমএসএ মাহমুদ বলেন, সরকার সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির অপপ্রয়োগের মাধ্যমে বিরোধীদলের অধিকার খর্ব করছে এবং গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ সংস্কারসহ জনগুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২০টি অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। বিচার বিভাগকে দলীয়করণের লক্ষ্যে বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। চাঁদাবাজি ও দলীয় সিন্ডিকেট ব্যবস্থার কারণে জ্বালানী তেলসহ বাজারে নিত্যপণের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিপন্থী।
সভায় বক্তাগণ বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। এ জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার। জনপ্রত্যাশিত এই সংস্কার প্রক্রিয়াটি কেবল সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের মাধ্যমেই তা সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় গিয়ে ফের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পথে হাঁটছে। যা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। বিএনপি সরকার গায়ের জোরে রাষ্ট্র সংস্কারের পথ রুদ্ধ করছে। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপই আজ জনস্বার্থের পরিপন্থী। তারা সংসদে একের এক গণবিরোধী বিল পাসের মাধ্যমে দেশে ফের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে। সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।