তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের বগুড়া কেন্দ্রিক সম্প্রচার কেন্দ্রের যে স্বপ্ন আমাদের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেখেছিলেন। আমারা সেই স্বপ্ন পূরুন করার জন্য অনতিবিলম্বে আমাদের নতুন তৎপরতা শুরু করবো।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া শহরের করতোয়া কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত রাজশাহী বিভাগের সাত জেলার সাংবাদিকদের আর্থিক অনুদান এবং সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের বয়স এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি। অনেকের ভোটের কালির দাগও শুকায়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনগণের কল্যাণে কাজ শুরু করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। কৃষক কার্ড বিতরণের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, আধুনিক সভ্যতাতে গণমাধ্যম একটি আনিবার্য অনুসঙ্গ। গণমাধ্যম ছাড়া আধুনিক জগতের সভ্যত্যতে সভ্যতা চর্চা করা যায় না। রাষ্ট্রের মালিক যেহেতু জনগণ। সমাজ যেহেতু তৈরি করে জনগণ। সেখানে রাষ্ট্র এবং সমাজের সকল ধনের তৎপরতাকে মানুষের সামনে আয়নার মত তুলে ধরার দায়িত্বই হচ্ছে গণমাধ্যমের কাজ। গণমাধ্যম ছাড়া রাষ্ট্র এবং সমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবে। অন্ধকারে নিমজ্জিত রাষ্ট্র এবং সমাজ জনগণের কল্যাণে আসতে পারে না। অতত্রব রাষ্ট্র এবং সমাজ জনগণের কল্যাণে কতটা কাজে লাগবে তা নিশ্চিত করে গণমাধ্যম। সেজন্যই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোন করুনার বিষয় নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আমাদের অনিবার্য একটি দায়িত্ব। এ কথা সঠিক আমাদের দেশে গণমাধ্যমে ক্ষমতাশীল মহল বার বার তার নিয়ন্ত্রিত একটি যন্ত্র হিসাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। আমাদের সরকার আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এবং আমাদের ৩১ দফার মধ্যে আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করাই হবে আমাদের কাজ। আমরা সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের পদক্ষেগুলি নিতে শুরু করেছি।
মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান এই বগুড়ায়। আমাদের মাতৃতুল্য নেত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই এলাকায় বহুবার জনপ্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁকে আপনারা বার বার নির্বাচিত করেছেন। সর্বশেষ শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমানকে আপনারা নির্বাচিত করে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসিয়েছেন। সেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই জানেন, বগুড়ায় কি করতে হবে। তাঁর হাত দিয়েই বদলে যাবে বঞ্চিত বগুড়ার চিত্র।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তা কোনো দয়া বা অনুদান নয়। বরং গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা। রাষ্ট্রে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও সিনিয়র সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন। আরও বক্তব্য দেন বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য ও বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাস। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদ। বাদ জুম্বা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বগুড়ার বেতার কেন্দ্র ও বগুড়া প্রেসক্লাব পরিদর্শনে যান।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ ছাড়া বাকি সাত জেলার ৫১ জন সাংবাদিককে ২ কোটি ৫ লাখ ৫০হাজার টাকার আর্থিক অনুদান এবং ৪৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ৮লাখ ৫২ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়।