বগুড়া সংবাদ (জাহাঙ্গীর আলম লাকি গাবতলী বগুড়া) : রবিবার বগুড়ার গাবতলীতে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড সোন্ধ্যা বাড়ির পূর্বপাড়া গ্রামে শনিবার দিবাগত রাতে বাড়ির পাশেই ট্রাক ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম (৪০) কে গলাকেটে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে গেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত সাইফুল ইসলাম ওই গ্রামের জামাত উল্লাহ জামোর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে সোন্দাবাড়ী তেলের পাম্পে ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে হিসাব শেষে বাড়ি ফেরেন সাইফুল ইসলাম। পরদিন রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বাড়ির পশ্চিমে প্রায় ৫০ ফুট দূরে তার গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। দুর্বৃত্তরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করে তাকে হত্যা নিশ্চিত করে। স্থানীয়দের ধারণা, ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনার পর বিকেলে নিহতের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী। এসময় উপস্থিত ছিলেন এলাকার সাবেক পৌর কমিশনার সেরাজুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বাদল হোসেন, হারুনুর রশীদ, ফারুক, এনামুল, টুকু প্রাংসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া সাইফুল ইসলামের বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানসহ কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেন।
বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকারীদের দ্রুত সনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং ফাঁসির দাবি জানান। তারা “হত্যাকারীর ফাঁসি চাই” স্লোগান দিতে থাকেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান আনিস ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেন, সুষ্ঠু বিচার না হলে পুনরায় কঠোর আন্দোলনে নামবেন তারা।