বগুড়া সংবাদ : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর সোনারপাড়া গ্রামের বিধবা ফরিদা বেওয়া(৬৫) তার নিজ বাড়ি আদালতের আদেশ থাকা সত্বেও পুত্রবধুর অসহযোগিতায় দখল পেলেন না।
আদালতের আদেশসূত্রে জানা যায়, জিয়ানগর সোনারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী ফরিদা বেওয়া তার নামে দলিলকৃত জায়গার ওপর নির্মিত বাড়িতে তার প্রবাসী বড় ছেলের স্ত্রী শ্যামলী আক্তারকে নিয়ে বসবাস করতেন। এরই মাঝে পুত্রবধু শ্যামলী আক্তার তার শ্বাশুড়ীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বাড়িটি দখলে নেয়। উপায়ন্তর না পেয়ে ফরিদা বেওয়া আদালতের শরনাপন্ন হন। বিজ্ঞ আদালত শুনানী শেষে ফরিদা বেওয়াকে তার বাড়ি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আদেশ প্রদান করে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসানকে দায়িত্ব প্রদান করেন। জাহিদ হাসান ২২জানুয়ারি বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িটি দখল মুক্ত করতে যায়। ওইদিন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বাড়িটি দখলমুক্ত করে দিতে দুইদিন সময় চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান তাকে দুইদিনের সময় দেন। কিন্তু ইউপি সদস্য শ্যামলী আক্তারকে মালামাল সরিয়ে নিতে বললে তিনি মালামাল না সরিয়ে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে উধাও হয়ে যান। ইউপি সদস্য বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে অবহিত করলে সমাজসেবা কর্মকর্তা ২৫জানুয়ারি রোববার পুনঃরায় বিধবাকে বাড়িটি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ওই গ্রামে যান। কিন্তু পুত্রবধু শ্যামলা আক্তার তালাচাবি দিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়া বাড়িটি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন, শ্যামলী আক্তার বাড়িতে তালাচাবি দিয়ে লাপাত্তা থাকায় বাড়িটি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন প্রদান করবো। বিজ্ঞ আদালত পরবর্তীতে যে আদেশ প্রদান করবেন, সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।