বগুড়া সংবাদ : দুপচাঁচিয়ায় সনাতন ধর্মালম্বীদের বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩জানুয়ারি শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় (সনাতন ধর্মালম্বী বসবাসরত) এ পূজা আড়ম্বরপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
সনাতন ধর্মমতে, বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতী। প্রতিবছর বাংলা সনের মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে শ্বেতশুভ্র পোশাকে দেবীর পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, শিশুদের হাতে খড়ি এবং বই এর পূজা করা হয়। হলুদ পোশাক ও ফুলের ব্যবহার এই পূজা বিশেষ অংশ যা বসন্তের আগমন এবং শিক্ষার নতুন সূচনাকে নির্দেশ করে। পূজারদিন সকালে পুরোহিত ঘি ও কাজল দিয়ে দেবীর চক্ষুদান করেন। সেই সঙ্গে শুদ্ধাচারে মন্ত্রপাঠ করে দেবীর পায়ে পুষ্পাঞ্জলি দেয়া হয়। শিশুদের বর্ণমালা বা বিদ্যা চর্চা শুরুর জন্য এই দিনটি অত্যন্ত শুভ। একে ‘হাতে খড়ি’ বলা হয়। শিক্ষার্থীরা বই-খাতা দেবীর পায়ে অর্পণ করে জ্ঞানার্জনের জন্য প্রার্থনা করেন। এ তিথি উপলক্ষে সনাতন ধর্মালম্বীর শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজ ও বাড়িতে সরস্বতী দেবীর প্রতিমা স্থাপন করে পূজা করে থাকেন। পাশাপাশি মন্দির ও অস্থায়ী মন্ডপ সহ অনেকে ঘরেই দেবীর পূজা করেন। পূজার পরেরদিনটিকে শীতলাষষ্ঠী হিসাবে পরিচিত।
সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস, উপবাস থেকে এ পূজা করে দেবীর নিকট প্রার্থনা করে দেবীকে সন্তুষ্ট করতে পারলে তারা জ্ঞান, বিদ্যা ও বুদ্ধিতে সফলতা লাভ করতে পারবেন। সরস্বতী পূজায় নানা ধরনের সামগ্রীর প্রয়োজন হয়। তার মধ্যে অভ্র-আবীর, আমের মুকুল, দোয়াত-কলম, যবের শিষ, পলাশফুল ও বাসন্তী রংয়ের গাঁধাফুল।
উপজেলা সদরের উৎসব পূজা কমিটি, সাহাপাড়া, মহাশ্মশানকালীবাড়ী, বীণাপাণি সংঘ, বুড়োকালিতলা, বহুবচন পূজা মন্ডপ সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
দুপচাঁচিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুদেব কুÐু জানান, সরস্বতী বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী। সেই সঙ্গে কল্যানময়ী, বুদ্ধিদায়িনী ও শক্তির আঁধার হিসাবে সনাতন ধর্মালম্বীরা দেবী সরস্বতীর আরাধনা করে থাকেন।