বগুড়া সংবাদ : বগুড়ায় কথিত জাতীয় পার্টির কার্যালয় দখল সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাইযোদ্ধা নাহিদুজ্জামান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন বগুড়ায় কথিত জাতীয় পার্টির কার্যালয় দখল সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বগুড়া শহরে জাতীয় পার্টি (জাপা) কার্যালয় দখল ও সেখানে তালা ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্্র মিডিয়ায় যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, আমরা-সকল আহত জুলাই যোদ্ধা-তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রকাশিত সংবাদসমূহ সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর, মনগড়া, তথাবিহীন এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত। কবি নজরুল ইসলাম সড়কের যে স্থানটিকে 'জাতীয় পাটির কার্যালয় হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, সেখানে জাতীয় পাটির কোনো বৈধ সাইনবোর্ড, নামফলক কিংবা দলীয় কার্যলয় থাকার কোনো প্রমাণ নেই। বাস্তবতা হলো-বিশেষ সূত্রে আমরা জানতে পারি, বগুড়ার আগের জেলা প্রশাসক জাতীয় পাটির লিজ আবেদন খারিজ করে দেয়। তাই উক্ত স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে একটি ভাংগাচোরা ও পরিত্যাক্ত ঘর হিসেবে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল, যেখানে অবৈধভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছিল। আমরা সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই-ওই স্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের দখলদারিত্ব করা হয়নি। সেখানে কেবলমাত্র গণভোট সংশ্লিষ্ট একটি সাময়িক ও অস্থায়ী ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল যা সংশ্লিষ্ট আশেপাশের অনুমতি ক্রমেই সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে জেলা প্রশাসকের নিকট মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করে যে, আহত জুলাই যোদ্ধারা নাকি স্থানটি দখল করেছে। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্মানিত জেলা প্রশাসক মহোদয় মো.তৌফিকুর রহমান আমাদের ডেকে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং উক্ত স্থানে অবস্থান না করার জন্য আহবান জানান। পাশাপাশি আশ্বস্ত করেন, জুলাই যোদ্ধাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উত্তম জায়গা নির্বাচন করে দিবে। আমরা প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও আনুগত্য রেখে ঐদিনই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানটি ত্যাগ করি। অতএব, তালা বুলিয়ে রাখা, কার্যলয় দখল কিংবা দখল অব্যাহত রাখা সংক্রান্ত যেসব বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, অসত্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপপ্রচার। আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই- আহত জুলাই যোদ্ধারা কখনোই দখলদার নয়। আমদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ সত্যের অপলাপ এবং সুপরিকল্পিত অপপ্রচার।"
দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে বগুড়ার উত্তরা হলের ঐ পরিত্যাক্ত স্থানে পুনরায় যারা প্রবেশ করবে বা অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়-জাতীয় পাটির কর্মীরা সেখানে মিলাদ মাহফিল আয়োজন করে পুনরায় সেটিকে তাদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। যা প্রশাসনিক আশ্বাসের পরিপন্থী এবং গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়াও আমরা স্পষ্ট করে জানাতে চাই-জুলাই আন্দোলনের নাম বাবহার করে একটি চক্র পরিকল্পিততভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঐক্য ও আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।